২য় অধ্যায়: নিশ্চয়ই সমৃদ্ধ পৃষ্ঠপোষকের সাহায্যে উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হবে

Noite Perdida em Hong Kong Açúcar com arroz 1335শব্দ 2026-08-04 01:46:11

প্রথম চীনা অভিনেত্রী হিসেবে গোল্ডেন ডিয়ার অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছেন হুও মিউমিউ। পুরস্কার পাওয়ার পরপরই তিনি সি-দেশের উইবো ট্রেন্ডিং তালিকার শীর্ষে উঠে আসেন এবং বিভিন্ন দেশের বিনোদন সংবাদপত্রের শিরোনাম দখল করে নেন।

মাত্র তিন বছরের ক্যারিয়ারে গোল্ডেন ডিয়ার অ্যাওয়ার্ডের কনিষ্ঠতম সেরা অভিনেত্রী হওয়ায় হুও মিউমিউ প্রচুর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী পেয়ে যান। তবে কিছু নিন্দুক তার বয়স এবং অভিনয়ের পরিপক্কতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়েনি।

— এই হুও মিউমিউয়ের আসল পরিচয় কী? শুরুতে এস-গ্রেডের প্রাচীন ঘরানার নাটকে সরাসরি প্রধান চরিত্রে সুযোগ পাওয়া, এরপর একের পর এক ভালো কাজ—এই তিন বছরে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও বিরতি নেননি। তার প্রতিটি কাজই অল্পবিস্তর জনপ্রিয়তা পেয়েছে, সেই সাথে অহরহ পুরস্কারও জিতেছেন। তার পেছনে থাকা প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষক কি তার পথ খুব বেশি মসৃণ করে দেননি?

— আমিও কৌতূহলী। অনলাইনে তার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে কিছুই পাওয়া যায় না, এমনকি তিনি কোথায় পড়াশোনা করেছেন তাও অস্পষ্ট। তিনি কি কোনো বড় কোনো ধনকুবেরের মেয়ে?

— কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি কি সত্যিই তার মেয়েকে বিনোদনের এই নোংরা জগতে পাঠাবেন? তাকে দেখেই মনে হয় কোনো পৃষ্ঠপোষকের হাত ধরে উপরে উঠেছেন।

দেশে ফেরার বিমানে বসে ওয়াইফাই ব্যবহার করে উইবো দেখছিলেন হুও মিউমিউ। এসব নেতিবাচক মন্তব্য দেখেও তার মনে কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না।

— এদের বিরুদ্ধে মামলা করবে?

নানা নামের তার সহকারী কয়েকটি ভেরিফাইড মার্কেটিং অ্যাকাউন্টের পোস্ট খুলে বিরক্ত হয়ে বললেন, — এরা কোনো সীমা ছাড়া গুজব ছড়াচ্ছে...

— আপাতত দরকার নেই। হুও মিউমিউ নির্বিকারভাবে হেসে বললেন, — এদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে আমার আসল পরিচয় প্রকাশ করতে হবে। আর এই ধরনের মানুষগুলো তার যোগ্য নয়।

— মানে?

নানা সাথে সাথে কিছু একটা আঁচ করতে পারলেন। তিনি একটু ঝুঁকে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, — তাহলে তোমার পরিচয়টা কী? তুমি কি সত্যিই কোনো প্রভাবশালী পরিবারের মেয়ে?

— আন্দাজ করো।

হুও মিউমিউ দুষ্টুমির হাসি হেসে ভুরু নাচালেন, তারপর ফোন রেখে চোখের ওপর আই-মাস্ক টেনে দিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিলেন।

নানা ভাবলেন, — ধুর! ভাবলাম আজ বোধহয় কোনো গোপন খবর পাব... মেয়েটা বড়ই বিরক্তিকর! এমনকি আমাকেও বিশ্বাস করে না!

পুরস্কার পাওয়ার উত্তাপ প্রায় পনেরো দিন ধরে বজায় ছিল। হুও মিউমিউকে প্রতিদিন অন্তত তিনটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয়েছে, টানা কাজ করেছেন তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'গোল্ডেন সেপ্টেম্বর' ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদের জন্য। সেই সাথে নতুন কয়েকটি ব্র্যান্ডের প্রতিনিধি হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, যার মধ্যে দুটি ছিল ব্লু-ব্লাড শীর্ষস্থানীয় বিলাসবহুল ব্র্যান্ড। তার জনপ্রিয়তা তার সমসাময়িক সব শিল্পীকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

কিন্তু তবুও হুও মিউমিউয়ের ভেতরটা শূন্যতায় ভরা। গভীর রাতে বিছানায় শুয়ে তিনি উইচ্যাটে বন্ধুদের খোঁজখবর নেওয়া মেসেজগুলো দেখছিলেন। এর মধ্যে উ কিয়ান ইউয়ে-এর মেসেজও ছিল। হুও মিউমিউ তাকে জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলেন, সেই পানীয়টিতে আসলে কী ছিল। কিন্তু পাছে ভুল বোঝাবুঝি হয় বা সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়, সেই ভয়ে তিনি আর কিছু বলতে পারেননি।

— তুমি বড্ড সাবধানী, অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি আর অনুভূতি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করো। হঠাৎ তার মনের ভেতর এক বিরক্তিকর কণ্ঠস্বর ভেসে এল।

বিছানায় শোয়া হুও মিউমিউ পুরো শরীর শক্ত হয়ে গেল! পায়ের তলা থেকে এক শীতল স্রোত শিরদাঁড়া বেয়ে মস্তিষ্কে উঠে এল!

— দেখলেই বোঝা যায়, সে তোমার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত, তাই তোমাকে ওষুধ খাইয়ে সম্মান নষ্ট করতে চেয়েছিল! এই ধরনের নোংরা খেলা খুব একটা বিরল নয়। কণ্ঠস্বরটি নিজের মনেই বলে যাচ্ছিল।

হুও মিউমিউ কাঁপতে কাঁপতে বিছানা থেকে নেমে বেডসাইড ড্রয়ার খুললেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে একটি ওষুধের বোতল বের করলেন।

— আমি না থাকলে তুমি কেবল অন্যদের দ্বারা নিগৃহীতই হতে! কণ্ঠস্বরে এবার রাগের আভাস।

কিন্তু হুও মিউমিউ সেই কথার কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি কয়েকটি ওষুধ বের করে সরাসরি মুখে পুরে গিলে ফেললেন। ওষুধ খাওয়ার পর মুখটা তেতো হয়ে গেল, তিনি বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করলেন।

মনে হচ্ছে, নিজেকে আরও ব্যস্ত করে তুলতে হবে। ব্যস্ত থাকলে তবেই দুঃখবোধ করার সময় থাকবে না, আর সেই সাথে [তাকে] সুযোগ দেওয়ার কোনো অবকাশও থাকবে না।

শীর্ষস্থানীয় একটি প্রোডাকশন হাউসের এস প্লাস ক্যাটাগরির বড় বাজেটের প্রাচীন ঘরানার নাটক 'হুয়াং মিং তিয়ান জিয়া'-র প্রধান চরিত্রে হুও মিউমিউয়ের নাম ঘোষণা করা হলো। তিনি চলচ্চিত্র জগতে পা রেখেও কেন আবার এই ধরনের নাটকে অভিনয় করছেন, তা নিয়ে ভক্ত ও নেটিজেনরা ভীষণ বিভ্রান্ত।