বড় বোন যেন নির্বাচিত সুন্দরী হতে পারে, সে জন্য বাবা-মা আমাকে এক বৃদ্ধ খোজার হাতে তুলে দিলেন, আমি হয়ে গেলাম তার দত্তক সন্তান। দত্তক বাবার আশ্রয়ে থেকেও ভালো খাওয়া-পরার সুযোগ মিলল, কিন্তু ভাগ্যের খেলায় আ
জিন ইউয়ানের চৌদ্দতম বছর। আমার বয়স তখন মাত্র চৌদ্দ। আমি সেই বছর জন্মগ্রহণ করি, যখন বর্তমান সম্রাট সিংহাসনের জন্য লড়াই করে শেষ পর্যন্ত সিংহাসনে বসেন। সেই বছর সম্রাট নিজের ভাইয়ের রক্তে হাত রাঙান, আর আমার মাও সে বছরেই মারা যান।
আমার মা বাবার উপপত্নী মাত্র। তার মৃত্যু ছিল শীতের তুষারের মতো—নগণ্য, তুচ্ছ।
আমার বাবা ছিলেন একটি জেলার ছোট ম্যাজিস্ট্রেট, সপ্তম শ্রেণীর এক তুচ্ছ কর্মকর্তা।
আমার আরও একজন বড় বোন আছে। তার নাম শিয়াও রুও, বয়স পনেরো। সে বাবার বৈধ স্ত্রীর সন্তান।
সেই বছরের শীত আসে অত্যন্ত তাড়াতাড়ি। অক্টোবর শেষ হতেই পড়ল সে শীতের প্রথম তুষার। যখন এই তুষার পড়ল, আমি তখন পেছনের উঠোনে কাপড় ধুচ্ছিলাম। দুটি হাত লাল হয়ে গেছে ঠান্ডায়।
শীত পড়ে গেছে, অথচ আমার কাছে একটি শীতের সুতির কাপড়ও নেই।
এদিকে বছরান্তে আসন্ন ছিল বার্ষিক সঙ্গিনী নির্বাচনের দিন। বাবা এবং বড় মা অনেক দিন ধরেই এই নিয়ে ব্যস্ত। কারণ তারা চান বড় বোন শিয়াও রুও সঙ্গিনী হয়ে অন্তঃপুরে যাক। এইজন্য ওপর-নিচে অনেক জায়গায় ঘুষ দিতে হবে।
বড় বোন শিয়াও রুও সত্যিই সুন্দরী। কিন্তু সঙ্গিনী নির্বাচনে শুধু সৌন্দর্য থাকলেই সম্রাটের সামনে যাওয়া যায় না। সম্রাটের সামনে যাওয়ার আগে যেসব ধাপ পেরোতে হয়, সেগুলো টাকার মাধ্যমে খুলতে হয়।
বাবা মাত্র একটি ছোট জেলার ম্যাজিস্ট্রেট। তার বেতন তেমন বেশি নয়। সৌভাগ্যক্রমে বড় মায়ের পরিবারের কিছু সচ্ছলতা আছে। এই ঘুষদস্তুর করতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে।
"আ ঝি, দেখো তো আমার এই স্কার্টটা কেমন লাগছে?"
শোনা মাত্রই ঘণ্টার মতো মিষ্টি কণ্ঠস্বর, আমি বুঝতে পারলাম আমার বড় বোন শিয়াও রুও এসেছে।
সে গোলাপি রঙের আঁটোসাঁটো স্কার্ট পরে আছে। চুল দুপাশে বেঁধেছে। তার শরীর সুঠাম, মুখমণ্ডল পীচফুলের মতো সুন্দর। পায়েও নতুন জরির জুতা। যেন নববর্ষের সাজ।
আম